বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

মেয়েদের যোগ্যতা থাকলেও এগিয়ে যেতে দেয়া হয় না: তাসমিমা হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, ‘সমাজে এখনো মেয়েদের যোগ্যতা থাকলেও তাদের এগিয়ে যেতে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দেখিয়ে তাদের পিছিয়ে রাখা হয়। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে নারীদের সম্মান বেড়েছে। আগে যেখানে সংসদে ১০ থেকে ১২ টি আসন ছিলো, এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় সেটি বেড়ে প্রায় ৫০ টির মত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কারণে সকল ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।’

শনিবার রাজধানীতে ল্যাবএইড গ্রুপ ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী’ শীর্ষক সেমিনারে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নারী কখনো ঘর ছেড়ে যায়না। তারা ঘরটাকে ধরে রাখে। একজন নারী যখন বিধবা হয়, তখন তিনি তার সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেন, কিন্তু পুরুষরা সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে। তারা স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে অপেক্ষা করতে চায়না। মেয়েদের সকল প্রতিবন্ধকতা, বিরূপ অবস্থা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সত্যিকারের মানুষের মত মানুষ হয়ে সন্তানদেরও মানুষ করে গড়ে তুলতে হবে। আমি চারটি কন্যা সন্তানের মা। কিন্তু কন্যা সন্তান হওয়ায় সমাজ এটিকে ভালোভাবে দেখেনি। তবে আমি তাদের মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলেছি।’

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, চিত্রশিল্পী কনকচাঁপা, পারসোনার প্রতিষ্ঠাতা কানিজ আলমাস খান, আদিবাসী উদ্যোক্তা ন্যালি মার্মা, পাইলট ফারিয়েল বিলকিস আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, একাত্তর টেলিভিশনের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক মিথিলা ফারজানা ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার প্রমুখ।

পাইলট ফারিয়েল বিলকিস আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘যে দেশে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সে দেশে প্রতিদিনই নারী দিবস। নারীরা এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সব সেক্টরে এখন ভালোভাবেই কাজ করছি।’

পারসোনার প্রতিষ্ঠাতা কানিজ আলমাস খান বলেন, ‘মেয়েরা ইনকাম করছে, ঘর থেকে বাহিরে বেরিয়ে আসছে। প্রতিবন্ধকতা নিজেরাই দূর করছে। তারা আরো এগিয়ে যাবে প্রত্যাশা করছি।’

আদিবাসী উদ্যোক্তা ন্যালি মার্মা বলেন, ‘আমরা সবাই সবার কথা বলবো। আদিবাসী নারীরা এখনো অনেক দিক থেকে পিছিয়ে আছে। পড়াশোনায় পিছিয়ে আছে তারা। অর্থনৈতিকভাবেও দুর্বল। তাদের কথাও আমাদের বলতে হবে।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘নারীরা ভালো জায়গায় যাওয়ার জন্য কেউ তাদের জায়গা ছেড়ে দেয়নি, অনেক প্রতিযোগিতা দিয়ে তাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতিটি পদে পদে থাকে তাদের প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। আমরা শুধু নারীর সাথে নয়, পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যেতে চাই। নারীদের মেধা যোগ্যতা দিয়ে নিজের পায়ে দাড়াতে হবে। আর্থিকভাবে সফল হতে হবে।’
নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com